শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে এখনো প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মদের মরদেহ শুক্রবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটের দিকে ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর কার্গো গেটে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পরে তা পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় শাহেদ। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
অন্যদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানায়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।
সৌদির জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপনীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম ছিল। তবে তাদের শাস্তির বিষয়ে সেখানে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
নজরুল ও সুইটি সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তালিকা অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে, আর সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে।
সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছরের কারাদণ্ড।