বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
ইরানি ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেয়ার হুমকির পর টানটান উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলার হুমকি স্থগিত করেছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ ও হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হচ্ছি। এটি হবে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কিছুটা স্তিমিত হলো। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে এই ঘোষণা এল।
তবে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ তখনই কার্যকর থাকবে যখন ইরান অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে’ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেয়া ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য তিনি স্থগিতে রাজি হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা মনে করি এটি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি।
ট্রাম্প লিখেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে এই স্থগিতাদেশের প্রধান শর্ত হচ্ছে—ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
ট্রাম্পের মতে, চুক্তির পথে বড় বাধাগুলো প্রায় কেটে গেছে। তিনি বলেন, অতীতের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রায় সবকটিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে। এই দুই সপ্তাহের সময়কাল চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্পের এই নাটকীয় ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতা বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।’
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স