শনিবার, ০৬ Jun ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন। শুনানির সময় মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান।
অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের কাছে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন। এর আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামি স্বপ্না খাতুন ও সোহেল রানা দুজনেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেন, যদিও সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমাও চান। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই মামলার বিচারকাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে তাদের বক্তব্য পেশ করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ভবনের একটি কক্ষে সাবলেট থাকতেন আসামি দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের ঘরের ভেতর রামিসার দেহ এবং বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে এবং প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।