রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

আ’লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আ’লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আঙিনা ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজনীতিবিদ, শিল্পী, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনিতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণের উপস্থিতিতে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে দুই ধরনের কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে বঙ্গবন্ধু এবং লাখো শহীদের স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ৩৩টি ক্ষেত্রের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণাকালে অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার বা আমার সহকর্মীদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। আমি নিজে এবং দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে সেগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাঙ্খিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরতা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।’

এবারের ইশতেহারে ২১টি ‘বিশেষ’ অঙ্গীকার নিয়ে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শিরোনামে গ্রামভিত্তিক উন্নয়নের করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই ইশতেহারের নাম দেয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ।’

একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনসেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

গ্রামে আধুনিক সুবিধার উপস্থিতি, শিল্প উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সুরক্ষা, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

এবারের ইশতেহারের মূল বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে তারুণ্য এবং গ্রামের উন্নয়ন। প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা নিশ্চিতকরণ, তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে নারীর ক্ষমতা, লিঙ্গসমতা ও শিশুকল্যাণ নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।

আগামী পাঁচবছরে দলটি পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেলসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন করতে চায়। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করাসহ দেশে আর একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, দারিদ্র্য নির্মূল, সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার এবং ‘ফাইভ-জি’ চালু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ।

এছাড়া রয়েছে দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, ব্লু-ইকোনমি এবং সমুদ্র উন্নয়ন করার অঙ্গীকার।

বাবা-মা, ভাই এবং আত্মীয় পরিজনকে হারানোর পর তাঁর ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তার ইশতেহার ঘোষণায় বলেন, ‘আমি রাজনীতি করছি শুধুমাত্র জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়, তাদের জীবন সমৃদ্ধশালী হয়, ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বঞ্চনা থেকে তারা যেন মুক্তি পায়, তাদের জীবনটাকে আরো উন্নত করা- এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র কামনা।

যে আদর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন সেই আদর্শ তিনি বাস্তবায়ন করতে চান উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা সাড়ম্বরে পালন করবো।’

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে, পারবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে।

‘স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি এ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গ্লানিকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন আগামী ৩০ তারিখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভেটি দিন। আমরা আপনাদেরকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব।’

ND


আপনার এ্যাড দিন

ফটো গ্যালালি

Islamic Vedio

বিজ্ঞাপন ভিডিও এ্যাড




© All rights reserved © 2018 angina24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com