বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ফুটবল শিরোপা অর্জনকারীদের সংবর্ধনা প্রদান শারীরিক উপকারী তা জানলে সাওম বা রোজা রাখা নিয়ে শুরু হয়ে যেত প্রতিযোগিতা! ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ফেনিবিল সমাজকল্যাণ যুব সংঘ রানার্সআপ কেজিকে সমাজকল্যাণ যুব সংঘ ব্রীজের অভাবে রোগীদের চরম ভোগান্তি ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদরাসার উদ্যোগে বীরমুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন আলোকচিত্র প্রদর্শনী : সুনামগঞ্জের সাংবাদিক আকরাম উদ্দিনের ‘৩৪ বছর’ কোভিড ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচী বাস্তবায়নে ফেনিবিল সমাজকল্যাণ যুব সংঘ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত নতুন জার্সি গায়ে দুর্দান্ত জয় পেল ফেনিবিল সমাজকল্যাণ যুব সংঘ লালপুরে মুসলিম হ্যান্ডসের তত্ত্বাবধানে মসজিদ নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত

ডাকসু নিয়ে উচ্ছ্বাস

নুর হোসেন ইমন:

২৯ বছর পর অবসান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে অচলাবস্থা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১১ মার্চ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনী সুবাতাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে কানাচে, চায়ের আড্ডায় সর্বত্রই একই আলোচনা ডাকসু নির্বাচন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কিনা বা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে শঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হলের বাইরে ভোটকেন্দ্রসহ ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল অধিকাংশ সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রণয়নে দাবি দাওয়া না মানলে নির্বাচন অংশগ্রহণ করা নিয়ে পুনরায় ভাববেন তারা। নির্বাচন নিয়ে বাধা আসার সম্ভাবনা আছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকেও।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনের কর্মযজ্ঞে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা ডাকসু নির্বাচন এবার দেখতে চান তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু হলো মিনি পার্লামেন্ট। এই নির্বাচনই সারাদেশে বার্তা দেবে। শিক্ষার্থীরা কিধরণের নির্বাচন ও প্রার্থীকে পছন্দ করেন। এছাড়া ডাকসু নির্বাচন হলেও সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দরজাও খুলে যাবে। ফলে তৈরি হবে মেধাবী ও যোগ্য ছাত্র নেতৃত্ব। যারা পরবর্তীতে জাতীয় নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে। তারা বলেন, এবার যদি নির্বাচন না হয় তাহলে এ নিয়ে একটি খারাপ ধারণা জন্ম নিবে এবং সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মুতি আসাদ বলেন, দীর্ঘদিন পরে ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজগুলো মূলত ডাকসু কেন্দ্রীকই পরিচালিত হয়ে থাকে। তাই ডাকসুকে আবার সচল করা গেলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক সংস্কৃতিক কার্যাবলি গতি লাভ করবে। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে অনশনকারী আইন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, প্রথম কথা হলো ডাকসু নির্বাচন হতে হবে। এ নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক রুটিনে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রতিবছর যেন নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে যারা ডাকসুতে নির্বাচিত হবে তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করবে। 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রণয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতোমধ্যেই জমা দিয়েছে প্রস্তাবনা। পরিষ্কার করা হচ্ছে ভিপি, জিএস বসার কক্ষসহ ডাকসুর ঐতিহাসিক ভবন। সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে। নির্বাচনের জন্য যতটুকু প্রস্তুতি দরকার সব প্রস্তুতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে। সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহাবস্থান রয়েছে। এর বাইরে যে যখন সহযোগিতা চাচ্ছে আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। ডাকসু নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ মনে করছি না বরং এটা আমাদের দায়িত্বের অংশ।
ছাড় দিতে নারাজ সংগঠনগুলো: ডাকসু গঠনতন্ত্রের ৮(ই)ধারায় প্রত্যেক হলে একটি করে ভোট কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীরা কেবল নিজ নিজ হলেই ভোট প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিতে ভোট প্রদান করতে শিক্ষার্থীদের বৈধ হল পরিচয় পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পরিবেশ পরিষদের তালিকাভূক্ত ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগের বাইরে ১৫টি সংগঠনের মধ্যে ১৩টি সংগঠনই হলের বাইরে কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছে। এসব সংগঠনের নেতাদের দাবি আবাসিক হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য থাকায় এবং হলগুলোতে ক্রিয়াশীল অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের অবস্থান না থাকায় হলে ভোট কেন্দ্র দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ভাগ শিক্ষার্থীই হলের বাইরে থাকে। এ অবস্থায় হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে সিংহভাগ শিক্ষার্থীই ভোট দিতে আসবে না বলে জানান তারা। 
ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ক্যাম্পাসের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ছাত্রলীগের একক আধিপত্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করে ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই একাডেমিক ভবনে নির্বাচন দেয়াই যুক্তিসংগত। হলে ভোটকেন্দ্র দিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে আবার ভাবার কথা জানান সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। 
ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের আবাসিক হলে থাকতে দেয়া হয়না। গত ১০ বছরে হলগুলো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তাই হলে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে না। তবে গঠনতন্ত্রের নিয়মানুসারে হলেই কেন্দ্র দেয়ার পক্ষে অনড় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এ বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বাইরে ভোটকেন্দ্র দেয়ার বিষয়টি হাস্যকর
এদিকে ডাকসু নির্বাচনের আগে বিরোধী ছাত্র সংগঠনের প্রধান দাবি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাদা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অর্থপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে ক্যাম্পাসে সকল মতের শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান নিশ্চিত করা। সর্বশেষ কয়েকবার ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও সহাবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে অভিমত তার। 
চ্যালেঞ্জ কোটা আন্দোলনকারীরা: সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গড়ে উঠে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ বেশ কিছু ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা রেখে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে তারা। সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া প্রথম সারির অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়ায় ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি। ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ বড় ছাত্র সংগঠনগুলোর বাইরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আলাদা প্যানেল দিবেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা না বলায় এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আগেরমত সমর্থণ না থাকায় এবার কোটা আন্দোলনকারীরা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের সমর্থন লাভ করবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা আমাদেরকেই চায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা ডাকসু নির্বাচনে আমাদেরকেই বেঁছে নিবে। তবে কোটা আন্দোলনকারীদের চ্যালেঞ্জ মানতে নারাজ ছাত্রলীগ। ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এ বিষয়ে বলেন, কোটা ছিলো একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন যাতে সকল মতাদর্শের শিক্ষার্থীরাই সমর্থন দিয়েছে। রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থীরা ডাকসুতে ছাত্রলীগকেই বেঁছে নিবে। 
নির্বাচনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন নিয়ে খুবই আশাবাদী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই অনেক কাজ করেছে। তাই আমার কাছে মনে হচ্ছে সবকিছুই ইতিবাচক। তবে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে একাডেমিক ভবনে কেন্দ্র স্থাপন করার শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক মনে করেন তিনি।


আপনার এ্যাড দিন

ফটো গ্যালালি

Islamic Vedio

বিজ্ঞাপন ভিডিও এ্যাড




© All rights reserved © 2018 angina24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com