একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। আজ সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন ফরম কেনার মধ্য দিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে বগুড়া–৬ আসনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন ফরম নিচ্ছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, নয়াপল্টন, ঢাকা, ১২ নভেম্বর। ছবি: দীপু মালাকারবিএনপির দপ্তর থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার জন্য মোট তিনটি আসনের মনোনয়ন ফরম কেনা হবে। ফেনী-১ আসনের জন্য কেনা হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া–৬ ও ৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীর ভিড়। নয়াপল্টন, ঢাকা, ১২ নভেম্বর। ছবি: দীপু মালাকারআজ, কাল ও পরশু (১২-১৪ নভেম্বর) মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে বিএনপি। ফরম জমা দেওয়ার তারিখ ১৩ ও ১৪ নভেম্বর। প্রতিটি ফরমের দাম পাঁচ হাজার টাকা। জমা দেওয়ার সময় দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, কেনা ও জমা মিলিয়ে প্রতিটি ফরমের দাম পড়বে ৩০ হাজার টাকা।
মনোনয়ন ফরম বিক্রি উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নয়াপল্টন, ১২ নভেম্বর। ছবি: দীপু মালাকারমনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে–ভেতরে জড়ো হয়েছেন অনেক নেতা-কর্মী। একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা এ সময় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। কোনো সমাবেশ ছাড়া বহুদিন পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে আজ ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
মনোনয়ন ফরম বিক্রি উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে স্লোগানমুখর নেতা-কর্মী। নয়াপল্টন, ১২ নভেম্বর। ছবি: দীপু মালাকারজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৩০ অক্টোবর এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। কারাবন্দী থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।