শনিবার, ০৬ Jun ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
আসন্ন ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক ১৪টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে মুসলিম দেশগুলোর এমন গণ-অংশগ্রহণ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। মূলত ফিফার নতুন ‘৪৮ দলের ফরম্যাট’ এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
মহাদেশভিত্তিক আধিপত্য:
এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম দেশগুলোর জয়জয়কার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে। এই দুই মহাদেশ থেকে সমসংখ্যক দেশ মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে:
এশিয়া (AFC): ফুটবল পরাশক্তি সৌদি আরব, ইরান ও কাতার সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নাম লিখিয়েছে জর্ডান ও উজবেকিস্তান। দীর্ঘ ৪০ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক।
আফ্রিকা (CAF): কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর নেতৃত্বে আফ্রিকা থেকে আসছে শক্তিশালী *নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর ও সেনেগাল*। শারীরিক ফুটবল আর কৌশলের মিশেলে এই দলগুলো যেকোনো বড় প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইউরোপ (UEFA): ইউরোপীয় ফুটবলের কঠিন বাধা পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে তুরস্ক ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। বিশেষ করে তুরস্কের জন্য এটি একটি আবেগের মুহূর্ত, কারণ তারা দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে।
পরিসংখ্যানের নতুন রেকর্ড
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি। তবে ৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাটে সেই সংখ্যা এবার অর্ধেকেরও বেশি বেড়ে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে। মোট অংশগ্রহণকারী দেশের তুলনায় এটি প্রায় ৩০ শতাংশ, যা একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে মুসলিম দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ। তবে এবারের আসরে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ থেকে কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ জায়গা পায়নি।
প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর রূপকথা সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের অবাক করে দিয়েছিল। এবারও ফুটবলবোদ্ধাদের দৃষ্টি থাকবে আফ্রিকান লায়নদের ওপর। এছাড়া এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার এবং শক্তিশালী ইরানকেও বড় দলগুলোর জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা থাকলেও, হাজারো সমর্থকের ভালোবাসা ও সংবর্ধনা নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ‘টিম মেল্লি’।
কেন এই পরিবর্তন?
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর গৃহীত ‘গ্লোবাল ফুটবল’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে করে ফুটবল কেবল লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের একচেটিয়া লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
আগামী জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞে এই ১৪টি দেশের পারফরম্যান্স কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।